জামালপুরে সড়কে নামাজ পড়লেন আন্দোলনকারীরা, আটকে রাখা হয় ট্রেন

জামালপুর পৌর শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় সড়কে নামাজ আদায় করেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৌর শহরের গেটপাড় এলাকায় সড়কে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন তারা।
এ সময় তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকিয়ে রাখা হয়।
এদিন সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলকারীরা সড়কে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে, বিকেল পাঁচটার দিকে পৌরসভার শতাধিক বাসিন্দা সড়ক ও রেলপথে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।
অবরোধের কারণে জামালপুর-সরিষাবাড়ী ও জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নামাজ আদায় করা আন্দোলনকারী আব্দুল কাদের বলেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছি। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। আন্দোলনের মধ্যেই নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় আমরা রেললাইনের ওপর জামাতে মাগরিবের নামাজ আদায় করেছি। আমাদের একটাই দাবি, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

অবরোধকারীরা জানান, গেটপাড় এলাকার বাসিন্দারা প্রায় ৩০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গেটপাড় এলাকার বাসিন্দা রাব্বি বলেন, একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছি। স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
আরেক বাসিন্দা শাহীন মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে আমাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার গেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।
জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম নূর মোহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।





