বড় জা-কে খুনের পর ডাকাতির নাটক, আদালতে ছোট জায়ের জবানবন্দি

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে আপন বড় জা রিগান আক্তার মিমকে (২৬) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট জা কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনার (২৩) বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের আদালতে এই জবানবন্দি দেওয়া হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ৩টার মধ্যে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা (ব্যাপারী বাড়ি) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রাইম সিন সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই নিহত রিগান আক্তার মিমের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত রিগান আক্তার মিম ওই বাড়ির মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ এবং আড়াই বছর বয়সি কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সি ছেলে সিরাজের মা। ঘটনার সময় তার স্বামী রনি চাকরিসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে সে সময় দুই গৃহবধূ, তাদের দাদা শ্বশুর নুরুল ইসলাম এবং তিন শিশু সন্তান ছিল।
মামলা রুজুর পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শাহরাস্তি মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দেবরবধূ কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া স্বীকার করে, পারিবারিক প্রতিহিংসার কারণে সে নিজেই তার বড় জা রিগান আক্তার মিমকে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং নিজের দায় এড়াতে বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে বলে একটি সাজানো গল্প তৈরি করে সে।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামি মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জা মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
.png)






