Advertisement

বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, সতর্ক হবেন যেসব লক্ষণে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, সতর্ক হবেন যেসব লক্ষণে
তীব্র বুকব্যথা না থাকলেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। ছবি : সংগৃহীত

হার্ট অ্যাটাকের কথা শুনলেই অনেকের মনে হয়, হঠাৎ তীব্র বুকব্যথা হবে, শ্বাস নিতে কষ্ট হবে এবং মানুষ সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়বে। কিন্তু সব হার্ট অ্যাটাক একইভাবে হয় না। কিছু ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথা বা কোনো ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক (Silent Heart Attack) বা নীরব হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হার্ট অ্যাটাকে লক্ষণ খুব হালকা হতে পারে বা এমন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যা অনেকেই গ্যাস, বদহজম বা অতিরিক্ত ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসা না হলে এটিও সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতোই হৃদ্‌পেশির ক্ষতি করতে পারে।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক কী

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকও সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতোই ঘটে। হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে বাধা তৈরি হলে হৃদ্‌পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এবং ক্ষতি হয়।

পার্থক্য হলো, এতে তীব্র বুকব্যথা নাও থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষণ এতটাই হালকা থাকে যে তাঁরা বুঝতেই পারেন না হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং ভবিষ্যতে হার্ট ফেইলিউর, পুনরায় হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

  • বুকে হালকা চাপ, ভারী লাগা বা অস্বস্তি
  • অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা
  • বদহজমের মতো অনুভূতি বা বমি বমি ভাব
  • কোনো কারণ ছাড়াই ঘাম হওয়া
  • মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব

এসব লক্ষণ একসঙ্গে বা আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে। অনেকেই এগুলোকে গ্যাস, পেশির ব্যথা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফল ভেবে গুরুত্ব দেন না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

যে কারও সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

  • ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • স্থূলতা
  • ধূমপানের অভ্যাস
  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ
  • পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস
  • মেনোপজ-পরবর্তী নারী

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্নায়ুর ক্ষতির কারণে ব্যথার অনুভূতি কম হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি।

কেন দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি?

অনেকেই মাস বা বছর পরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় জানতে পারেন যে তাঁদের আগে একবার সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা বা কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের মাধ্যমে হৃদ্‌পেশির পুরোনো ক্ষতির চিহ্ন ধরা পড়তে পারে।

যত দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় এবং ভবিষ্যতের জটিলতার ঝুঁকিও কমে।

কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?

যদি বুকে অস্বস্তি, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, চোয়াল বা হাতে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অকারণে তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয়, বিশেষ করে যদি আপনার হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকে, তাহলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যান বা জরুরি চিকিৎসা নিন। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে সম্ভব হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যবহার করুন।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

  • ধূমপান পরিহার করুন।
  • রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমান।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে যদি আপনার ঝুঁকির কারণ থাকে।

হার্ট অ্যাটাক মানেই যে তীব্র বুকব্যথা হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় খুব সাধারণ কিছু উপসর্গের আড়ালেও সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই বুকে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা চোয়াল ও হাতে ব্যথার মতো লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। সময়মতো চিকিৎসা নিলে হৃদ্‌পেশির ক্ষতি কমানো এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি