মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আড়ালে আলালের অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, ক্যাসিনো এবং অর্থ পাচারকারী চক্রের মূল হোতা আলাল হোসেনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলাল উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের জহুর উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে একটি ছোট দোকানে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল আলাল। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় আলালকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত ৪টি স্মার্টফোন, বেশ কিছু সিম কার্ড এবং জুয়ায় রিচার্জের কাজে ব্যবহৃত নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্তসংলগ্ন ভারতের কোচবিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে টাকা রিচার্জসহ আন্তর্জাতিক এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল আলাল।
স্থানীয় বাসিন্দা জুবায়ের, আব্দুল হান্নান ও হায়েত আলী জানান, গ্রেপ্তার আলালের দোকানে প্রতিদিন স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যুবকদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদের সে প্রকাশ্যে মোবাইলে জুয়া খেলায় প্রলুব্ধ ও সহযোগিতা করত। যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তারা এই জুয়াড়ির কঠিন শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, নতুন জারি হওয়া ‘জুয়া আইন-২০২৬’ এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যুব সমাজকে রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, জুয়া ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদ্য জারিকৃত ‘জুয়া আইন-২০২৬’ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
.png)






