logo
Advertisement

সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া যুবদল নেতাকে অব্যাহতি

সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া যুবদল নেতাকে অব্যাহতি
অব্যাহতি পাওয়া যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাংবাদিক শিহাব মিয়াকে হুমকিদাতা যুবদল নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা যুবদল।

অব্যাহতি পাওয়া সেই যুবদল নেতার নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি মধ্যনগর উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার রংচি গ্রামের বাসিন্দা। সাংবাদিক শিহাব মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা।

সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক সামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা যুবদলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য সাদ্দাম হোসেনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত সদস্যের কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব সংগঠন নেবে না এবং যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিহাব মিয়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে মধ্যনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর আগে গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সাংবাদিক শিহাব মিয়াকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন তিনি।

এই ঘটনায় গতকাল শুক্রবার এশিয়া পোস্টে ‘এইডা শেষ করন লাগব, নইলে ঝামেলা অইব’ সাংবাদিককে যুবদল নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতাদের নজরে পড়ে।

জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে হাওরের বোরো ফসলহানির ঘটনায় কৃষকদেরকে প্রধানমন্ত্রীর মাবনিক সহায়তা প্রদানে কৃষক তালিকা তৈরিতে অনিয়মের ঘটনায় আপত্তি জানানোর কারণে সাংবাদিক শিহাবকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন।

গত ৩০ জুন মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৮৯০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও আপত্তি ওঠে।

পরবর্তীতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রকৃত কৃষক, সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিক শিহাব মিয়া নিজ ওয়ার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিছু অকৃষক, সচ্ছল ব্যক্তি ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপত্তি জানান। আপত্তির কারণে উপজেলা প্রশাসন বিতর্কিত ও আপত্তিকৃত নামগুলো সাময়িকভাবে চিহ্নিত করে সহায়তা প্রদান স্থগিত রাখেন এবং আপত্তিকৃত নামগুলো পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাংবাদিক শিহাব মিয়া জানান, তার আপত্তিকৃত নামগুলোর মধ্যে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম মিয়া ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম মিয়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে তাকে কল করে হুমকি দেন।

মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার সময় যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন উত্তেজিত হয়ে আবার বলেন, ‘তুই রংচি থাকলে গেলে, আমার সামনে পড়ন লাগবো, সামনে পড়লে তুই বুঝিছ। তুই কত বড় সাংবাদিক অইছস, আমার সামনে পড়ন লাগবো...’

তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিহাবকে আমি কোনো হুমকি দিইনি। সে আমার (ভাতিজা) চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। সে কৃষকদের তালিকায় আপত্তি দিয়েছে। কৃষকদের তালিকায় আপত্তির দেওয়ার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে, কোনো হুমিক দিইনি।’

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মামুনুর রশিদ কয়েছ বলেন, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাই সাদ্দাম হোসেনের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আজকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সংগঠনের প্যাডে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক শিহাবের জিডির বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড ও জিডির বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।