‘আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে, এখন দেশ গড়ার সময়’

দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দাফন হয়ে গেছে এবং এখন আওয়ামী লীগ বলতে আর কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবেও সবাই এ কথা জানে। এখন দেশ গড়ার সময়। সরকারি ও বিরোধী দলসহ সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
শনিবার (১৮ জুলাই) সিলেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও ‘এ টি এম তুরাব পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, দেড় হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেয়েছি। শেখ হাসিনাকে দেশে পুনর্বাসন করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনীতি নয়, তার রাজনীতি হচ্ছে শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এ টি এম তুরাব আমাদের সবার প্রেরণার উৎস। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলকে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে। তুরাব হত্যার বিচার কেন বিলম্বিত হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান।
ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান লোদী কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ‘এ টি এম তুরাব পদক’-এর জন্য মনোনীত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
বক্তব্যে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার সাক্ষী আমরা। অথচ মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়েছে—এটা অত্যন্ত নির্মম বাস্তবতা। জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি এই বিলম্বের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে তারা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চান না উল্লেখ করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্য দিয়েই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তুরাব হত্যার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া যেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো ঝুলে না যায়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিবাদ নয়, আমরা ফাঁসির দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি।
মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই তুরাব জীবন দিয়েছেন। এই মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সরকার কোনো অন্যায়কে ছাড় দেবে না। আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, রাজনীতির কারণে আর কারও রক্ত ঝরুক—সেটা আমরা চাই না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল, ক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ এবং ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য কবির আহমদ। অনুষ্ঠান শেষে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিরা।
.png)






