গোলবন্যায় ইংল্যান্ডের ব্রোঞ্জ, হার দিয়ে দেশমের বিদায়

যে ম্যাচ খেলতেই নাকি আগ্রহ ছিল না দুই দলের, সেটিই উপহার দিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে উন্মাতাল রাতগুলোর একটি। প্রথমার্ধে চার গোল করে ফ্রান্সকে প্রায় ছিটকে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পেদের পাল্টা ঝড়ে সেই ব্যবধান নেমে আসে এক গোলে। শেষ মুহূর্তেও হয়েছে দুই গোল। সব নাটক শেষে স্কোরবোর্ড থামল ৬-৪-এ।
বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে এটিই তাদের প্রথম তৃতীয় স্থান। অন্যদিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কাছাকাছি গিয়েও পরাজয় দিয়ে ফ্রান্সের দায়িত্ব শেষ করলেন দিদিয়ের দেশম।
মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। দেজিরে দুয়ের ভুল পাস ধরে মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করেন ইংলিশ অধিনায়ক। ১৯ মিনিটে রাইসের ক্রসে অরক্ষিত অবস্থায় হেড করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা।
এর মধ্যে অফসাইডের কারণে সাকার একটি গোল বাতিল হয়েছিল। তবে ৩৭ মিনিটে আর তাঁকে আটকানো যায়নি। ফ্রান্সের অগোছালো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান আর্সেনাল তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এবেরেচি এজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন সাকা। বিরতিতে ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল ৪-০ গোলে।
ম্যাচ শেষ বলে ধরে নেওয়ার উপায় অবশ্য রাখেনি ফ্রান্স। বিরতিতে উসমান দেম্বেলে, ব্রাডলি বারকোলা, লুকাস দিনিয়ে ও দায়োত উপামেকানোকে নামিয়ে দলের চেহারা বদলে দেন দেশম।

দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই মাইকেল অলিসের পাস থেকে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। ৫৪ মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে দ্বিতীয় গোলটি করেন বারকোলা। এরপর ৬৭ মিনিটে আবারও অলিসের পাসে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন এমবাপ্পে। ৪-০ থেকে স্কোর হয়ে যায় ৪-৩।
সমতায় ফেরার সুযোগও পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু দুবার ভালো জায়গা থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন অলিস। ফরাসিদের আক্রমণের মধ্যেই ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সে জেড স্পেন্সকে ফাউল করেন মালো গুস্তো। পরের মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ৫-৩ ব্যবধানে।
নাটক তখনো বাকি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উপামেকানোর পাস থেকে দেম্বেলে গোল করলে আবারও এক গোলের ব্যবধানে চলে আসে ফ্রান্স। তবে দুই মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় ম্যাক্সিম লাক্রোয়াকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গোল করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহাম।
এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে বেলিংহামের গোল হলো সাতটি, যা এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়ের নতুন রেকর্ড। সাকা হয়েছেন জিওফ হার্স্ট, গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেইনের পর বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ ইংলিশ ফুটবলার।
এমবাপ্পেও খালি হাতে ফেরেননি। জোড়া গোলে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি। বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ২২ গোল করে লিওনেল মেসির ২১ গোল ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। ফাইনাল বাকি থাকা মেসির চেয়ে সোনার বুটের দৌড়ে এখন দুই গোল এগিয়ে এমবাপ্পে।
১০ গোলের এই ম্যাচ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের জয়ে। আগের দুই তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে হারা ইংল্যান্ড এবারই প্রথম ব্রোঞ্জ জিতল এবং ১৯৬৬ সালের শিরোপার পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অবস্থান নিশ্চিত করল।
.png)






