Advertisement

যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না, তাতেও কত হিসাব

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না, তাতেও কত হিসাব
ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের ম্যাচটি কোনো দলেরই স্বপ্নের নয়। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আবার মাঠে নেমে তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করতে হয়। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের কোচও স্বীকার করেছেন, তাদের কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চাননি। তবু মায়ামির ব্রোঞ্জ ফাইনালে সান্ত্বনার পদকের চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার আছে।

ফ্রান্সের জন্য এটি একটি যুগের শেষ ম্যাচ। প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর জাতীয় দলের ডাগআউট থেকে বিদায় নিচ্ছেন দিদিয়ের দেঁশম। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, তুলেছেন ২০২২ সালের ফাইনালেও। তার শেষ ম্যাচটি তাই খেলোয়াড়দের কাছে বিশেষ।

ইব্রাহিমা কোনাতে জানিয়েছেন, দেঁশমের অবদানের প্রতিদান হিসেবে তারা ব্রোঞ্জ জিততে চান। দেঁশম নিজেও ম্যাচটিকে প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখতে রাজি নন। ফাইনালের তুলনায় গুরুত্ব কম হলেও ফ্রান্সের জার্সি পরে শেষ লক্ষ্যটি পূরণ করার দায়িত্ব আছে বলেই মনে করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সামনে অন্য রকম ইতিহাস। ফ্রান্সকে হারাতে পারলে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজেদের সেরা ফল পাবে তারা। ইংল্যান্ড এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেললেও দুবারই হেরেছে। এবার জিতলে প্রথমবার বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক পাবে থ্রি লায়নস।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ কয়েক মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে সেই ম্যাচ ২-১ ব্যবধানে হারার ক্ষত এখনো তাজা। থমাস টুখেল সেই পরাজয়কে দলের বয়ে চলা ক্ষত হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রতিক্রিয়া দেখানোর শুরুটা ফ্রান্সের বিপক্ষেই চান। ইংল্যান্ড ফুটবল

ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ গোল্ডেন বুটের লড়াই। আট গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় মেসি এগিয়ে, এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট তিনটি।

ফাইনালের আগে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোলই তাকে এককভাবে শীর্ষে নিয়ে যাবে। তখন স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন হবে মেসির। এমবাপ্পে শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জিতলে বিশ্বকাপে দুবার গোল্ডেন বুট পাওয়া প্রথম খেলোয়াড় হবেন। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোল ছয়টি করে, তাঁদের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

এমবাপ্পে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও তাকে একাদশে রাখা হবে কি না, সেটি নিশ্চিত করেননি দেঁশম। চোট ও ক্লান্তির কারণে দুই দলেই বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের চতুর্থ সাক্ষাৎ। ১৯৬৬ ও ১৯৮২ সালে জিতেছিল ইংল্যান্ড, ২০২২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকলে অতিরিক্ত সময় এবং প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে ব্রোঞ্জজয়ী।