Advertisement

গুদাম থেকে ২ কোটি টাকার জব্দকৃত কীটনাশক উধাও

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
গুদাম থেকে ২ কোটি টাকার জব্দকৃত কীটনাশক উধাও
সিলগালা করা গুদাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিসিক শিল্প নগরীর একটি সিলগালা গুদামে (গোডাউন) রাখা জব্দকৃত প্রায় দুই কোটি টাকার নিষিদ্ধ কীটনাশক উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই জব্দকৃত নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে বিষয়টি উন্মোচিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। এ সময় সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মনিরসহ পুলিশের একটি দল সহায়তায় ছিলেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন বিসিক শিল্প নগরীর একটি গোডাউন থেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক ‘বিফার ৫ জি’ অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সে সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উক্ত গোডাউনে থাকা ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ কীটনাশক জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে গোডাউনটি সিলগালা করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়া চলার পর আদালতের নির্দেশে গত বুধবার জব্দকৃত কীটনাশক ধ্বংস করতে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় সিলগালা ভেঙে গোডাউনে প্রবেশ করে দেখা যায়, ভেতরে থাকা কীটনাশকের সব কার্টন ফাঁকা। সেখানে কেবল ১২৩টি ছেঁড়াফাটা খালি ও ক্ষতিগ্রস্ত প্যাকেট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মালামাল না থাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ধ্বংস কার্যক্রম স্থগিত রেখে উপস্থিত বিসিক কর্মকর্তার জিম্মায় বাকি আলামত রেখে চলে যান।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মুন বলেন, গত বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের সঙ্গে কীটনাশক ধ্বংসকরণ অভিযানে গিয়েছিলাম। সিলগালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর যে পরিমাণ মালামাল থাকার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। তাই সেখানে ধ্বংস অভিযান না চালিয়েই ম্যাজিস্ট্রেট স্যার চলে যান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার বাদী ধীমান ভূষণ বলেন, এ বিষয়ে আমাকে এখনো অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি, তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। তবে মামলাটির বাদী আমিই।

সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, বুধবারে ম্যাজিস্ট্রেট স্যার মালামাল ধ্বংস করতে এসেছিলেন। কিন্তু সিলগালা ভেঙে ভেতরে সম্পূর্ণ মালামাল পাওয়া যায়নি, মাত্র ১২৩টি কীটনাশকের প্যাকেট ছিল। পরে তিনি ধ্বংস অভিযান পরিচালনা না করেই চলে যান। বাকি মালামাল কোথায় গেল, সে বিষয়ে আদালত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।