চট্টগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, যাত্রী আহত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এতে আন্দোলনস্থলে বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশা সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে দুই যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়। এর আগে দুপুর ২টা থেকে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ২ নম্বর গেট মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের মিছিল ও অবরোধের কারণে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে ৪ নম্বর রুটের একটি সিটি বাস লেইন পরিবর্তন করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশা চালকসহ দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ভেতরে আটকা পড়েন। পরে উপস্থিত জনতা ও উদ্ধারকারীদের দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর দুই যাত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মরিয়ম জাহান নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এশিয়া পোস্টকে বলেন, মিছিলের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিল। ওই সময় ৪ নম্বর রুটের বাসটি দ্রুত লেন পরিবর্তন করতে গিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় এটি পুরো মুচড়ে যায় এবং চালক ভেতরে আটকে ছিলেন। অনেক চেষ্টার পর তাকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল ১৪ জুলাই থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভ চলাকালে নুসাইবা জান্নাত নামে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি— শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। এই দাবিতেই আজ নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে।
দুর্ঘটনা ও সড়ক অবরোধের জেরে ২ নম্বর গেট এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে বর্তমানে সম্পূর্ণ যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।





