Advertisement

জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা, কুমিল্লার সেই কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা, কুমিল্লার সেই কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি
জলাবদ্ধতায় তলিয়ে ছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষার দিন কলেজকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার পর কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ৭ শিক্ষককে একযোগে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশজুড়ে আলোচিত ওই ঘটনার পর এ বদলির আদেশ জারি হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি করে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও বদলির আদেশে ১৩ জুলাইয়ের জলাবদ্ধতার ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্র জলমগ্ন হয়ে পড়ে। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের নৌকা ও ভ্যানে করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া সাত শিক্ষকের মধ্যে ছয়জন এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন না। তার ছেলে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন। অধ্যাপক আবদুল মালেক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বদলি হওয়া মোহাম্মদ মহসীন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

বদলির তালিকায় রয়েছেন উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, চৌদ্দগ্রাম), অধ্যাপক আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ), সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ), প্রভাষক আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ) এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমান বেতন-ভাতায় নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে ওই দিন অপরাহ্ন থেকে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে। একইসঙ্গে অনলাইনে অবমুক্তি ও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে সাত শিক্ষককে বদলির ঘটনায় কলেজজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টির কারণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এটি দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আমরা তো ইচ্ছা করে পানি জমাইনি। তাহলে শিক্ষকদের কেন এভাবে বদলি করা হলো?’

শিক্ষকদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমাধান নয়, বরং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে পারে।

বিষয় :কুমিল্লা