আইইএলটিএস ছাড়া কোন কোন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে

বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি ছিল, তারা আইইএলটিএস ছাড়াই বিভিন্ন উন্নত দেশে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত নিশ্চিত হতে চায় যে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ইংরেজি একাডেমিক পরিবেশে ক্লাস বুঝতে, অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন কি না।
এই দক্ষতা প্রমাণের জন্য আইইএলটিএসের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প হলো ‘মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন’ বা এমওআই সনদ। এটি শিক্ষার্থীর আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র, যা নিশ্চিত করে যে তার পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ইন্টারভিউ, লিখিত পরীক্ষা বা অভ্যন্তরীণ ভাষা মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান মূল কোর্স শুরু করার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাষা প্রস্তুতিমূলক বা পাথওয়ে প্রোগ্রাম অফার করে। আইইএলটিএস না থাকলেও অনেক সময় টোফেল, পিটিই কিংবা ডুওলিঙ্গো ইংরেজি পরীক্ষার স্কোরকেও বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন নমনীয় ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণকারী বেশ কিছু জনপ্রিয় গন্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেমন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব সিগেন, ইউনিভার্সিটি অব কাইসারস্লটার্ন এবং আরডব্লিউটিএইচ আখেন ইউনিভার্সিটির নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজি-মাধ্যমের কোর্সে আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করা যায়।
ফ্রান্সের নিওমা বিজনেস স্কুল, কেজ বিজনেস স্কুল ও প্যারিস স্কুল অব বিজনেস পূর্ববর্তী ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনার প্রমাণ বা ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। নেদারল্যান্ডসের হ্যান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস, স্যাক্সিয়ন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিনজেনের কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে এমওআই সনদ গ্রহণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যেও ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ, বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তির সুযোগ দেয়। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় সরাসরি সুযোগ কিছুটা সীমিত হলেও বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্রিজ বা পাথওয়ে প্রোগ্রামের মাধ্যমে মূল ডিগ্রিতে যুক্ত হওয়া সম্ভব।
তবে আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের আবেদনপত্রটি আরও নিখুঁত ও শক্তিশালী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষাগুলোতে ভালো একাডেমিক ফলাফল বা জিপিএ থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ বা এসওপি তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীর একাডেমিক লক্ষ্য ও ইংরেজি ভাষার ওপর তার দখলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
অবশ্য এই পথের কিছু নিজস্ব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্স আইইএলটিএস ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি নেয় না, যার ফলে পছন্দ করার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আইইএলটিএস না দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইন্টারভিউ বা ভাষা পরীক্ষার মুখোমুখি হতেই হয়।
বিদেশে গিয়ে অ্যাকাডেমিক রাইটিং, প্রেজেন্টেশন এবং ক্লাসের আলোচনা সফলভাবে সামলাতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সনদ যাই থাকুক না কেন, বাস্তব জীবনে ভালো ইংরেজি যোগাযোগের দক্ষতা থাকা আবশ্যিক। তাই আইইএলটিএস ছাড়া বিদেশে পড়া সম্ভব হলেও এ স্কোর কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়। এটি যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের পরিধি বাড়িয়ে দেয়, তেমনি স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ভিসার আবেদনকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে। তবে সঠিক তথ্য ও যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে আইইএলটিএস ছাড়াও উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাত্রা সম্ভব।




