কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে: শহিদুল ইসলাম বাবুল

বাংলাদেশের কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে তাদের শ্রমের ন্যায্য সুফল থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, তিনি একটি বৃহৎ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং কৃষকের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তার ভাষ্য, দেশের কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং ঋণের বোঝার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি আরও জানান, দেশের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কৃষকরা সরকারের পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা পান না। ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। কিন্তু মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে কৃষক লাভের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন।
কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশের সোনালি আঁশ পাটও আগের অবস্থানে নেই। তার দাবি, বাংলাদেশের পাট বিদেশে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যে কার্পেটসহ বিভিন্ন পণ্য হিসেবে আবার বাংলাদেশেই বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ দেশের পাটকলগুলো আগের মতো কার্যকর নেই। কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না হলে কৃষক আরও সংকটে পড়বেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বর্তমানে কৃষি উপকরণের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও সেই অনুপাতে কৃষিপণ্যের দাম বাড়ছে না। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার, বীজ ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে কৃষিঋণ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। আগামী দিনে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই বিএনপি কাজ করবে।
.png)






