একটি ছোট পরিবর্তনেই ব্যর্থ এআই ছবি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা

এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। ফলে কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিম, তা বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করার বিশেষ টুল তৈরি করছে।
তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু একটি ছবি ক্রপ বা কেটে ছোট করলেই কিছু এআই শনাক্তকরণ টুল সেটিকে আর সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। এতে স্পষ্ট হয়েছে, এআই ছবি শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।
কী ঘটেছে?
সম্প্রতি মেটা তাদের নতুন এআই ইমেজ মডেলের জন্য একটি পরীক্ষামূলক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি মূলত ছবির মধ্যে থাকা একটি অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন বা ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করে জানায়, ছবিটি মেটার এআই দিয়ে তৈরি কি না।
কিন্তু একটি স্বাধীন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল ছবিগুলো ঠিকভাবে শনাক্ত হলেও সেগুলো ক্রপ করার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে টুলটি আর সেগুলোকে এআই-তৈরি ছবি হিসেবে চিনতে পারেনি।
শুধু ক্রপ করলেই কেন সমস্যা হয়?
অনেক এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ছবির ভেতরে বিশেষ ধরনের ডিজিটাল সংকেত বা ওয়াটারমার্ক সংরক্ষণ করে।
ছবির একটি বড় অংশ কেটে ফেলা, অতিরিক্ত কমপ্রেস করা বা আকার পরিবর্তন করার ফলে সেই সংকেত দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা হারিয়ে যেতে পারে। তখন শনাক্তকরণ টুলের পক্ষে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হয়ে পড়ে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না।
এর অর্থ কি এআই ছবি সহজেই লুকানো সম্ভব?
বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ক্রপ করলেই সব ধরনের এআই শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হবে, এমন নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ভিন্নভাবে কাজ করে। তবে এই ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, বিনোদন এমনকি ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
যদি এআই-তৈরি ছবি সহজেই শনাক্ত করা না যায়, তাহলে বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের সময় এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শুধু প্রযুক্তির ওপর ভরসা করাই কি যথেষ্ট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, না। এআই ছবি শনাক্ত করতে শুধু একটি সফটওয়্যার বা ওয়াটারমার্কের ওপর নির্ভর না করে একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। যেমন- ছবির উৎস যাচাই করা, মেটাডেটা পরীক্ষা করা,
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে একাধিক শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করা।
এভাবে ভুল শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
অনলাইনে কোনো ছবি দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ছবিটি খুব অস্বাভাবিক, চমকপ্রদ বা বিতর্কিত কোনো ঘটনা দেখায়, তাহলে সেটির উৎস যাচাই করা জরুরি।
ছবি কোথা থেকে এসেছে, কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম সেটি প্রকাশ করেছে কি না এবং একই ঘটনার অন্য ছবি বা ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেগুলোও দেখে নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, এআই ছবি শনাক্ত করার প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে, কিন্তু এখনও এটি শতভাগ নির্ভুল নয়। সামান্য সম্পাদনা, যেমন ক্রপ করা বা ছবির আকার পরিবর্তন করাও কিছু শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, সচেতন ব্যবহারকারী এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসের ওপরও ভুয়া ছবি শনাক্ত করার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: সামা নিউজ




