ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অবতরণে নিষেধাজ্ঞা, সেন্টকমের ক্ষোভ

ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিওনে আমেরিকার অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান অবতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আপাতত কোনো অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণ করতে দেওয়া হবে না বলে নির্দেশ জারি করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ। এ নিষেধাজ্ঞার পর ক্ষুব্ধ সেন্টকমের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডার এবং উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের এই একতরফা সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই অঞ্চলে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর সামরিক কার্যক্রমের জন্য এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো অত্যন্ত জরুরি। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন বাহিনীর অভিযানকে দুর্বল করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের বিমানগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমেরিকার এই আপত্তির মুখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও অনুরোধকে পুরোপুরি ‘যৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বেন গুরিওনে অবস্থানরত মার্কিন বিমানগুলোকে ‘কৌশলগত সম্পদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় যৌথ সামরিক ও অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য এই বিমানগুলো অত্যন্ত অপরিহার্য।
মূলত গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে বেসামরিক বিমান চলাচলের সুবিধার্থে পার্কিংয়ের জায়গা খালি করতে বেন গুরিওন বিমানবন্দর থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা ছিল ইসরায়েলের। কিন্তু পরে ইসরায়েল সেই স্থানান্তর পরিকল্পনা স্থগিত করায় এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বাধে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা ছাড়াই আরও চারটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান হঠাৎ করে বেন গুরিওন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর ফলে বর্তমানে এই বিমানবন্দরে অবস্থানরত মোট মার্কিন বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩টি। অথচ এর আগে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মোতায়েন করা আমেরিকার প্রায় ১০০টি রিফুয়েলিং বিমানের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০টি বিমান বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাখার কথা ছিল।
এদিকে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম কানের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, বিমানবন্দরে একসঙ্গে এত বেশি মার্কিন সামরিক বিমানের উপস্থিতি বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে। বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম ভ্রমণের মাস এই জুলাইয়ে যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তবে যাত্রীদের প্রায় ৫০ হাজার এয়ারলাইন্স টিকিট বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হবে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দর থেকে তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতা করে দুই দেশের সংঘাত অবসান ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করালেও, তা লঙ্ঘন করে উভয় পক্ষ বর্তমানে একে অপরের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।




