ইরানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণ

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রী শোক শোভাযাত্রার মধ্যে ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরে দেশটির উপকূলীয় প্রদেশ বুশেহরের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওই প্রদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্টান রোসাটমের তত্ত্বাবধানে রশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলমান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ মার্কিন বাহিনী বুশেহরের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশাপাশ এলাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছে। তিনি জানান, সমুদ্র উপকূলের একটি জেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে নতুন এই হামলার লক্ষ্যবস্তু পারমাণবিক স্থাপনাটি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে ইরানের পাঁচটি প্রদেশে চালানো মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। ওই হামলার পাল্টা আক্রমণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে মেহের জানিয়েছে, রাতভর হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ বুশেহর প্রদেশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোণের শব্দ শোনা গেছে। বুশেহরে একটি বন্দর, বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি নতুন ইউনিট নির্মাণের কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসাটম। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক আক্রমণে এই স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপরে ওই স্থাপনা থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেয় মস্কো। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে কর্মীদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে তারা। রাশিয়া জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সরিয়ে নেওয়া কর্মীদের ধাপে ধাপে কাজে ফেরানো হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই রাতে তারা ইরানে প্রায় ১৭০টি হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, বুধবার রাতে ইরানের উপকূলজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতকেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক রসদসংক্রান্ত অবকাঠামোসহ প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।





