জুলাই হত্যা মামলার বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না: শিবির সেক্রেটারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ‘জুলাই আন্দোলন ও ন্যায়বিচার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজপথে থাকা আমাদের ওপর সরাসরি গুলির ঘটনা ঘটেছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিল। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকলেও সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সবগুলোর মামলা কি ঠিকভাবে এগিয়েছে? মামলা তো আরও অনেক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা কয়টি মামলার অগ্রগতির তথ্য পাচ্ছি? কোন মামলা নিম্ন আদালতে, কোনটি উচ্চ আদালতে বা ট্রাইব্যুনালে কী অবস্থায় আছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
জুলাইয়ের বিচার প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, আমি দেখছি, বিচারপ্রক্রিয়া যেভাবে এগোনোর কথা ছিল, সেভাবে এগোয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো তাদের প্রত্যাশিত বিচার পায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার যে কথা বলেছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাইয়ের ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোথায়, কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, তার তথ্যও রয়েছে। এসব নথি থাকার পরও সংশ্লিষ্টদের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা জানান, তারা চান বিচার উন্মুক্ত আদালতে হোক, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং নিরপরাধ কেউ যেন দোষী সাব্যস্ত না হন। বিচার বিভাগের মাধ্যমেই কারা অপরাধী, তা নির্ধারিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, শুধু জুলাইয়ের ঘটনাই নয়, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হওয়া প্রয়োজন।
হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে নিহতদের ঘটনা এবং বিডিআর (পিলখানা) হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আলোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার গুলি চালানোর নির্দেশনার অডিও রয়েছে এবং তৎকালীন সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারায় অংশ নিয়েছিল, যাতে কোনো নিরীহ মানুষ হামলার শিকার না হন। এ ঘটনাই নতুন বাংলাদেশের চেতনার প্রতিফলন।





