Advertisement

ভারতে এবার সড়কমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নতুন পার্টির আত্মপ্রকাশ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভারতে এবার সড়কমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নতুন পার্টির আত্মপ্রকাশ
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ই-২০ জনতা পার্টির (ইজেপি) প্রোফাইল। ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতে এবার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন—‘ই-২০ জনতা পার্টি’ (ইজেপি)। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর সরকারি নীতির প্রতিবাদে এবার নেটদুনিয়ায় সরব হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের এই দলটি।

রোববার (২৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রতীক হিসেবে ‘কাঁকড়া’কে বেছে নিয়ে ‘হ্যাঁ, আমরা কাঁকড়া’ স্লোগানে ভারতজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনটি। সিজেপির মতোই মিম ও ব্যঙ্গাত্মক কৌশলকে হাতিয়ার করেছে ইজেপি। গত ২৬ জুলাই সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তারা কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে।

ইজেপির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হয়, গ্রাহকদের সবকিছু জানার অধিকার রয়েছে। জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে স্পষ্ট দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় বিষয় নয়, বরং জনস্বার্থের বিষয়। আসুন, আমরা একসেঙ্গ সোচ্চার হই এবং ইথানল নীতি নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সরাসরি ইথানল মিশ্রণের বিরোধিতা কিংবা বিদ্যমান জ্বালানিতে কোনো ভর্তুকি দাবি করছেন না। তারা জ্বালানি নীতিতে পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকের পছন্দমতো জ্বালানি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা চান। ইজেপির মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশের প্রতিটি খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোলের ব্যবস্থা রাখা; ইথানল মিশ্রণের হার, খরচ ও প্রভাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, মাইলেজ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ওপর প্রভাব মূল্যায়নে নিরপেক্ষ সমীক্ষা চালানো।

এক্সে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তৈরি হওয়া একটি অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ সামে আত্মপ্রকাশ করে। সিজেপির নেপথ্যে অভিজিৎ দীপকের নাম থাকলেও ইজেপির মূল উদ্যোক্তাদের পরিচয় এখনও অজানা। তবে আত্মপ্রকাশের পরপর ইনস্টাগ্রামে সোয়া দুই লাখ এবং এক্সে ৩৫ হাজারের বেশি অনুসারী নিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দলটি।

যদিও জ্বালানি সংক্রান্ত মূল নীতি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, তবুও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী দীর্ঘদিন ধরে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের পক্ষে সোচ্চার থাকায় তার পদত্যাগ দাবি করছে আন্দোলনকারীরা।

বিরোধীদের অভিযোগ, গডকড়ীর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ যুক্ত থাকায় তিনি এই নীতির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তবে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিষয়টি পার্লামেন্টে তোলার কথা জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

ইতোমধ্যে ভারতে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ইথানল মেশানো পেট্রোল ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমে যাচ্ছে, যা সম্প্রতি ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে। তবে সরকারের দাবি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পেট্রোলে ইথানল ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ থাকলেও তা এখন ২০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় বিপুল রাজস্ব সাশ্রয় হচ্ছে এবং কার্বন নির্গমন কমছে।

তবে সরকারের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয় ইজেপি। ইজেপির অনলাইন তৎপরতার পাশাপাশি এই ইস্যুতে দিল্লি ট্যাক্সি ও পর্যটক পরিবহনকারী সংস্থা সহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন আগামী ৩১ জুলাই দিল্লিতে গাড়ি মিছিল এবং ৪ আগস্ট ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—পেট্রোলের পুরো দাম পরিশোধ করা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কেন ইথানল মিশ্রিত নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে?