Advertisement

কুমিল্লা/ফ্লাইওভারের সব লাইট উধাও, জানে না সওজ

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা
ফ্লাইওভারের সব লাইট উধাও, জানে না সওজ
ফ্লাইওভারের সব লাইট উধাও। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে উদ্বোধনের পর স্থাপন করা প্রায় দেড় শতাধিক স্ট্রিট লাইট একে একে উধাও হয়ে গেছে। লাইটের সঙ্গে চুরি হয়েছে বৈদ্যুতিক তারও। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার বিপুলসংখ্যক সরকারি সম্পদ কীভাবে হারিয়ে গেল, কারা চুরি করল এবং এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০৮ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির অধিকাংশ স্ট্রিট লাইটের খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাতি নেই। কোথাও আবার বৈদ্যুতিক সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো ফ্লাইওভার অন্ধকারে ডুবে যায় এবং প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগে ফ্লাইওভারে ছিনতাই, চলন্ত যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মাদকসেবীদের আড্ডাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসে পদুয়ার বাজার এলাকায় নামা অনেক যাত্রীও বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

জানা যায়, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারটি ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর এসব স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই একে একে লাইট ও বৈদ্যুতিক তার উধাও হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেগুলো আর পুনঃস্থাপন করা হয়নি।

তিশা পরিবহনের চালক হানিফ বলেন, রাতে অনেক সময় এখানে গাড়ি থামাতে হয়। তখন ছিনতাইকারীরা অন্ধকারে ওত পেতে থাকে। আলো না থাকায় যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ফ্লাইওভারটি অন্ধকার হয়ে আছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি অপরাধও বাড়ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

নিলয় নামের এক স্থানীয় দোকানদার বলেন, চার বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এই দীর্ঘ সময়ে একদিনও ফ্লাইওভারের লাইট জ্বলতে দেখিনি। এটি কুমিল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আদনান ইবনে হাসান বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় প্রায় ১৫০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ লাইট ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যায়। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে লাইটগুলো পুনরায় স্থাপন ও সচল করা হবে।

কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ফ্লাইওভারের লাইট বহু বছর ধরেই বন্ধ। উদ্বোধনের পরপরই লাইট ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যায়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই অবস্থা ছিল। এখন স্থায়ীভাবে কীভাবে স্ট্রিট লাইটগুলো সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিষয় :কুমিল্লা