বান্দরবানে আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুখাদ্য সংকট

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
বান্দরবানে আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুখাদ্য সংকট
আশ্রয়কেন্দ্রে সংকট রয়েছে শিশুখাদ্যের। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক পরিবার খাদ্য, শিশুখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার, শুকনো কাপড় ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত দুধ ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে তাদের খাদ্যসামগ্রী ও ব্যবহার্য কাপড়চোপড়।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলো খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শিশুখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো কাপড়, স্যানিটারি সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

বান্দরবান সরকারি শহর মডেল স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া আর্মি পাড়ার বাসিন্দা মারিয়া আক্তার বলেন, পানি ওঠার পর থেকে আমরা এখানে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরই হয় না, তাহলে আমরা কী খাব? ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পপি আক্তার বলেন, বন্যার কারণে সবকিছু ফেলে চলে আসতে হয়েছে। শিশুদের জন্য দুধ, শুকনা খাবার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট রয়েছে। দ্রুত এসব সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আনোয়ারা বেগম বলেন, বন্যার পানিতে আমার বাড়িঘর ডুবে গেছে। বৃষ্টির পানিতে আমার সব কাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরার মতো কোনো কাপড়ই নেই। খুব অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা শুরুর পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনা খাবার এবং শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিশেষ করে শুকনা খাবার এবং শিশুদের জন্য দুধসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিশু রয়েছে এমন প্রতিটি পরিবারকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার কিনে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুকনো কাপড় সরবরাহ করা আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন হলেও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।