Advertisement

ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ভবিষ্যৎ বুনছে শিশু নিরব

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ভবিষ্যৎ বুনছে শিশু নিরব
ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশুনা করছেন নিরব। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আধুনিকতার ছোঁয়ায় চারদিক যখন বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে, তখন নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের পাশে একটি জরাজীর্ণ ঘরে কুপি জ্বালিয়ে দিন কাটছে শিশু নিরব ও তার মা রুপসানা বেগমের। ঘরের কুপির তেল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই সাত বছরের নিরব ছুটে যায় রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। সেখানে ল্যাম্পপোস্টের আলোতেই চলে তার পড়াশোনা।

নিরবের বয়স যখন মাত্র ১৬ মাস, তখন তার বাবা অন্য বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে নিরবের বড় ভাই রিফাত (১৬) ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে যে সামান্য টাকা পাঠায়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার। মা ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। অভাবের সংসারে তিন বেলা খাবার জোটানোই যেখানে দায়, সেখানে মাছ-মাংস তো দূরের কথা, নিরবের পড়াশোনার খরচ চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়া নিরবকে সেনা কর্মকর্তা (আর্মি অফিসার) বানানোর স্বপ্ন দেখলেও মায়ের সেই সাধ্য নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, আমরা এখানে রাতে ক্রিকেট খেলি। প্রতিদিন দেখি নিরব ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে বই পড়ছে। আমাদের খেলার প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই, সে পড়াশোনায় মগ্ন থাকে।

আরেক বাসিন্দা হোসাইন বাবু বলেন, নিরব অনেক মেধাবী কিন্তু তার পরিবার একদমই অসহায়। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ছেলেটি ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে।

শিশু নিরব বলে, আমার মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেন। আমি বড় হয়ে আর্মি অফিসার হতে চাই এবং মায়ের সব কষ্ট দূর করতে চাই।

নিরবের মা রুপসানা বেগম বলেন, আমার ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু তাকে ভালো করে পড়ানোর মতো আর্থিক সচ্ছলতা আমার নেই। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তে ছেলেকে পড়াচ্ছি। সে আর্মি হতে চায়, তাই কষ্ট হলেও তাকে পড়ালেখা করাচ্ছি। মাদ্রাসার হুজুর বলেছেন, আমার ছেলেটা অনেক চালাক ও মেধাবী।

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিঠুন রায় বলেন, সন্ধ্যা হলেই ছেলেটি বই নিয়ে স্টেশনে পড়তে আসে। এটি খুবই ভালো লাগার বিষয়। তার পারিবারিক সমস্যা না থাকলে তো আর সে স্টেশনের আলোতে পড়তে আসত না। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করলে সে জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে।