Advertisement

জোড়া গোলে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
জোড়া গোলে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: রয়টার্স

দল হারল, বিদায়ী কোচকে জয় উপহার দেওয়া হলো না। কিন্তু মায়ামির পাগলাটে রাতে কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজের নামে লিখে নিলেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রেকর্ডটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ছিল ২০টি। মেসি ২১ গোল নিয়ে ছিলেন সবার ওপরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপ্পে। এরপর ৬৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে এককভাবে উঠে যান শীর্ষে।

তিনটি বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচ খেলে এমবাপ্পের গোল এখন ২২টি। ২০১৮ বিশ্বকাপে করেছিলেন চার গোল, ২০২২ সালে আটটি। এবারের আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ।

এক আসরে দুই অঙ্কের গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবেও ৫৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সর্বশেষ ১৯৭০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার ১০ গোল করেছিলেন। এক আসরে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল আছে এখন শুধু ১৯৫৮ সালের জুস্ত ফন্তেইনের ১৩ এবং ১৯৫৪ সালের সান্দর কচিসের ১১টি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের নেতৃত্বও দেন এমবাপ্পে। বিরতির তিন মিনিট পর মাইকেল অলিসের পাস থেকে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ব্রাডলি বারকোলার গোলে ব্যবধান আরও কমার পর অলিসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক।

ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলে হেরে গেলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বড় সুবিধা নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন এমবাপ্পে। তার ১০ গোলের সঙ্গে রয়েছে চারটি গোলে অ্যাসিস্ট। ফাইনালের আগে মেসির গোল আটটি, অ্যাসিস্টও চারটি।

এর অর্থ, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মেসি এক গোল করলে সোনার বুট থাকবে এমবাপ্পের হাতেই। দুই গোল করলে এমবাপ্পের সঙ্গে সমতায় পৌঁছাবেন তিনি। তখন গোলে সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে কে কম মিনিট খেলেছেন, সেই হিসাব নির্ধারণ করবে বিজয়ীকে। সরাসরি এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যেতে মেসির প্রয়োজন হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড পুনরুদ্ধারের হিসাব অবশ্য একটু সহজ। বর্তমানে ২১ গোলে থাকা মেসি ফাইনালে এক গোল করলে এমবাপ্পের ২২ গোল স্পর্শ করবেন। জোড়া গোল করলে আবার এককভাবে শীর্ষে উঠবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই তারকার ব্যক্তিগত লড়াই। সেবার ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। সাত গোল করা মেসি জিতেছিলেন বিশ্বকাপ ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০২২ সালের সোনার বুট

চার বছর পর দল ফাইনালে না থাকলেও ব্যক্তিগত লড়াইয়ে আবার মেসির সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গেলেন এমবাপ্পে। এবার শেষ উত্তরটি দিতে হবে মেসিকে, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে।