বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নাম জানতে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে?

রোববার রাতে ঘুমিয়ে নিয়ে উঠবেন, নাকি একেবারে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার প্রস্তুতি নেবেন? ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বেশ দোটানায় বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা। বাংলাদেশের ঘড়িতে রাত ১টায় শুরু হবে স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন জানা যাবে কখন?
সাধারণত ফুটবল ম্যাচটি ৯০ মিনিটেই শেষ হলে উত্তর মিলতে পারে রাত ৩টা থেকে সোয়া ৩টার মধ্যে। অতিরিক্ত সময়ে গেলে অপেক্ষা গড়াবে প্রায় ৪টা পর্যন্ত। টাইব্রেকারের নাটক যোগ হলে চ্যাম্পিয়নের নাম জানতে বাজতে পারে সাড়ে ৪টাও। আর বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য দেখতে চাইলে অপেক্ষা পৌঁছে যেতে পারে ভোর ৫টায়।
এবারের ফাইনালে ৯০ মিনিটের সাধারণ হিসাব খাটছে না। দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক পানিবিরতি আছে। ১৫ মিনিটের বিরতির মধ্যে ঢুকে পড়েছে বিশ্বকাপের প্রথম হাফটাইম শো, যার জন্য বিরতি দ্বিগুণ হতে পারে। সমতা থাকলে খেলতে হবে আরও ৩০ মিনিট। এরপরও বিজয়ী না মিললে টাইব্রেকার। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হওয়ার পর পদক ও ট্রফি প্রদানের দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা তো আছেই।
সোজা হিসাবটি এমন: ৯০ মিনিটে ফল হলে রাত সোয়া ৩টার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন জানা যেতে পারে। অতিরিক্ত সময় লাগলে অপেক্ষা গড়াবে ভোর ৪টা পর্যন্ত। টাইব্রেকারে গেলে বাজতে পারে সাড়ে ৪টা। ট্রফি তোলার দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করতে হতে পারে ভোর ৫টা কিংবা তারও পরে।
হাফটাইমেই যোগ হতে পারে আধঘণ্টা
ফুটবলে দুই অর্ধের মাঝের বিরতি সাধারণত ১৫ মিনিট। নিয়ম অনুযায়ী এর বেশি হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে হবে ১১ মিনিটের তারকাবহুল হাফটাইম শো।
ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও বিটিএসের অনুষ্ঠান শুরুর আগে মাঠে মঞ্চ বসাতে প্রায় সাত মিনিট লাগতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে সরঞ্জাম সরিয়ে মাঠ আবার খেলার উপযোগী করতেও প্রয়োজন হতে পারে একই সময়।
মঞ্চ বসানো, ১১ মিনিটের অনুষ্ঠান এবং মঞ্চ সরানো মিলিয়ে হিসাব দাঁড়ায় অন্তত ২৫ মিনিট। সম্প্রচারকারীদের ধারণা, পুরো বিরতি প্রায় ৩০ মিনিটও হতে পারে।
অর্থাৎ সাধারণ ম্যাচের তুলনায় শুধু হাফটাইমেই বাংলাদেশের দর্শকদের অপেক্ষা ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাড়তে পারে।
৯০ মিনিটের ম্যাচেও বাড়তি সময় নিশ্চিত
এবারের বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধের ২২ মিনিটের মাথায় তিন মিনিটের পানিবিরতি বাধ্যতামূলক। দুই অর্ধ মিলিয়ে ছয় মিনিটের এই বিরতি পরে সংযোজিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা হয়।
এর সঙ্গে থাকবে বদলি, চোট, গোল উদ্যাপন, সময় নষ্ট ও ভিএআর পরীক্ষার সময়। তাই ৪৫ মিনিটের অর্ধ শেষ হতে বাস্তবে ৫০ থেকে ৫৫ মিনিট লেগে যেতে পারে।
রাত ১টায় খেলা শুরু হলে প্রথমার্ধ শেষ হতে পারে ১টা ৫০ থেকে ১টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে। হাফটাইম শোসহ বিরতি ২৫ থেকে ৩০ মিনিট হলে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে হতে বাজতে পারে ২টা ১৫ থেকে ২টা ২৫।
সব মিলিয়ে ৯০ মিনিটেই ফল হলে শেষ বাঁশি বাজার সম্ভাব্য সময় রাত ৩টা ৫ থেকে ৩টা ২৫ মিনিট।
সমতা থাকলে রাত পৌঁছাবে ভোরে
নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর সমান থাকলে দুটি ১৫ মিনিটের অর্ধে অতিরিক্ত সময় খেলতে হবে। তবে বাস্তবে অপেক্ষা শুধু ৩০ মিনিটের নয়।
অতিরিক্ত সময় শুরুর আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির বিরতি থাকবে। দুই অর্ধের মাঝে পক্ষ বদলের জন্যও কিছু সময় লাগবে। যোগ হবে দুই অর্ধের সংযোজিত সময়। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত সময়ের পর্ব শেষ হতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট লাগতে পারে।
অতিরিক্ত সময়েই কোনো দল এগিয়ে গেলে চ্যাম্পিয়ন জানা যেতে পারে ভোর ৩টা ৪৫ থেকে ৪টা ৫ মিনিটের মধ্যে।
টাইব্রেকার কতক্ষণ চলবে?
টাইব্রেকারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। গোলপোস্ট ও প্রথম শট নেওয়া দল ঠিক করতে টসের পর দুই দল পাঁচটি করে পেনাল্টি নেবে। কোনো দল আগেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলে পাঁচ শটের আগেও শেষ হতে পারে লড়াই।
সাধারণ একটি টাইব্রেকার প্রস্তুতিসহ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে শেষ হয়। পাঁচ শটের পরও সমতা থাকলে শুরু হয় সাডেন ডেথ। তখন সময় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট কিংবা তারও বেশি হতে পারে।
ফাইনাল টাইব্রেকারে গেলে ভোর ৪টা ৫ থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন জানা যেতে পারে। সাডেন ডেথ দীর্ঘ হলে অপেক্ষাও বাড়বে।
এটি সম্ভাব্য বিরতি ও সংযোজিত সময় ধরে করা আনুমানিক হিসাব। চোট, দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষা, আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন কিংবা সাডেন ডেথ সময় আরও পিছিয়ে দিতে পারে।
চ্যাম্পিয়ন জানা আর ট্রফি তোলা এক নয়
শেষ বাঁশি কিংবা নির্ধারক পেনাল্টির সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন জানা যাবে। কিন্তু ট্রফি উঠতে অপেক্ষা করতে হবে আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট।
মঞ্চ প্রস্তুতের পর প্রথমে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হবে। এরপর থাকবে ব্যক্তিগত পুরস্কার, রানার্সআপ দলের পদক এবং চ্যাম্পিয়নদের পদক। এবারের ফাইনালে বিজয়ী অধিনায়ক ও কোচকে নতুন চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেওয়ার আয়োজনও রয়েছে। সবশেষে অধিনায়কের হাতে উঠবে বিশ্বকাপ।
২০২২ সালের ফাইনালে টাইব্রেকার শেষ হওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর ট্রফি তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। এবারও কাছাকাছি সময় লাগলে টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়া ফাইনালের ট্রফি প্রদান গড়াতে পারে ভোর ৫টার পরে।
আর যারা সমাপনী অনুষ্ঠান থেকেই সম্প্রচার দেখা শুরু করবেন, তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হবে সেই অনুষ্ঠান। সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতিতে ট্রফি ওঠা পর্যন্ত টেলিভিশনের সামনে কাটতে পারে প্রায় ছয় ঘণ্টা।
তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জানতে বাংলাদেশিদের অন্তত রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে। ম্যাচে অতিরিক্ত নাটক জমলে রাত পেরিয়ে যাবে ভোরে। আর ট্রফি তোলার মুহূর্তটি দেখতে চাইলে ফাইনালের রাত শেষ হতে পারে সকালের আলোয়।
.png)






