কেন কারবালার প্রান্তরে নেওয়া হচ্ছে আলী খামেনির মরদেহ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দীর্ঘ চার মাস আগে নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার প্রাণহানির পর পরই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার।
সুপ্রিম লিডারের মরদেহ নিয়েই এতদিন পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়েছে গেছে ইরান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসতে একরকম বাধ্য করেছেন তারা।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতাবস্থা আসলে আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) থেকে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তার মরদেহ গত চার মাসের পর প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছে তার কফিনবন্দি মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছেন। জানাজায় অংশ নিতে আফগানিস্তান, ইরাকের সীমান্ত খুলে দিয়েছে ইরান, যাতে দেশগুলোর সাধারণ মুসলমানও সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় শরিক হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা হবে। প্রায় ২ কোটি মুসল্লি এতে সমবেত হতে পারেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা হবে মোট ছয়টি শহরে। এর মধ্যে ইরাকের কারবালাও রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান কারবালাকে শিয়া মুসলিমরা পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচনা করেন।
ইরানের দীর্ঘ সময়ের সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামীকাল শনিবার। এদিন রাজধানী তেহরানের নির্মাণাধীন ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে তার মরদেহ রাখা হবে। এরপর সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তার নিথর দেহ।
পরদিন মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র শহর কোমে। এরপর যথাক্রমে নাজাফ ও ইরাকের কারবালায় নেওয়া হবে। নাজাফে ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারে বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ সড়কপথে কারবালার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র শহর কারবালার ‘বাইন আল-হারামাইন’ (ইমাম হুসাইন ও আব্বাসের মাজারের মধ্যবর্তী স্থান) এলাকায় সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
কারবালা থেকে ৯ জুলাই কারবালা থেকে মরদেহ পুনরায় নাজাফ হয়ে খামেনির জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে। পরে সেখানকার বিখ্যাত ইমাম রেজার (আ.) পবিত্র মাজার প্রাঙ্গনে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। সেখানে তার বাবার কবরও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে নিজস্ব কার্যালয় বা ‘বেত রাহবারি’ (হাউস অব লিডারশিপ)-এ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাকে হত্যার জন্য বছরের পর বছর ওঁৎ পেতে ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।
রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যালের সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা। পরে সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা করে হত্যা করা হয় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতাকে। নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ কখনোই প্রকাশ্যে আনেনি ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, ইরনা





