ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা, সমতা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা, সমতা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
ছবি : সংগৃহীত

সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে অষ্টম নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা। অনুষ্ঠানে বক্তারা সমতা, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুর এলাহী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বক্তৃতার মূল বক্তা ছিলেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাধারণ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন, সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব এবং অর্থ বিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি আইনপ্রণেতাদের স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া এবং সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে রাখার প্রস্তাব করেন।

প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য একটি দক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের সুপারিশ করে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার আশপাশের শহরতলিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে দিল্লির আদলে একটি মহানগর কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ফরাসউদ্দিনের মতে, কর ও রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন, প্রশাসনে নিরপেক্ষ পদায়ন এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন নিশ্চিত করা গেলে স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়নিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রয়াত নেহরীন খানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত ড. আকবর আলী খানের কন্যা ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রয়াত নেহরীন খানের স্মরণে প্রতিবছর এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।