৮ কোটির ড্রেনেও মিলছে না সুফল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
৮ কোটির ড্রেনেও মিলছে না সুফল, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

গত দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণে রংপুরের পীরগাছায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সরেজমিনে উপজেলার বালাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্করা। অথচ ওই এলাকাতেই প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেই ড্রেন থেকে সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী জানান, নবনির্মিত ড্রেনটি কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। বরং যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে ড্রেনটি নির্মাণের ফলে আগের পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পীরগাছা বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ড্রেন নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের হলেও মাত্র কয়েক মাস আগে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, এই ব্যয়বহুল ড্রেন এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন তো হচ্ছেই না, উল্টো অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি বাইরে চলে আসছে। এ ছাড়া অত্যন্ত নিম্নমানের ও দায়সারাভাবে কাজ করায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ড্রেনের নিচে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল না পেয়ে আমরা উল্টো দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পীরগাছা উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার লেভেল (উচ্চতা) অনুযায়ী ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু এলাকা রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় সেখানে পানি জমছে, এটি ড্রেনের ত্রুটির কারণে নয়। তবে ড্রেনের নিচে কয়েকটি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।