পারিবারিক কবরস্থানে বন্যার পানি, ভেলায় ভাসিয়ে দূরের এলাকায় নেওয়া হলো লাশ

বন্য পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি। এলাকায় পানি জমে থাকায় ভেলায় ভাসিয়ে মরদেহ নেওয়া হয় দূরের একটি কবরস্থানে।
রোববার (১২ জুলাই) উপজেলার বন্যাদুর্গত জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন।
সাতকানিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত রয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টি কমায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার সকাল থেকে পুনরায় ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত শুক্রবার মারা যাওয়া জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ অন্য এলাকায় নিয়ে দাফন করা হয়।
স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে আছে। ফোরকানদের বসতবাড়ি, কবরস্থান ও চলাচলের পথ প্লাবিত থাকায় লাশ ভেলায় করে শুকনা স্থানে নিয়ে যেতে হয়েছে। পরে দূরের একটি সরকারি উন্মুক্ত কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবার জানায়, শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন মোহাম্মদ ফোরকান। ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। বসতঘর, উঠান ও পারিবারিক কবরস্থান কোমরসমান পানি জমে থাকায় থাকায় দাফনের কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না।
স্বজনরা কলাগাছের ভেলায় করে মরদেহটি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় করে দুই কিলোমিটার দূরের দস্তিদারহাটে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা শেষে স্থানীয় একটি পাহাড়ের খাস জায়গায় তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।
মোহাম্মদ ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে বাবার দাফন হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে সেখানে কোমরসমান পানি থাকায় বাবার সেই শেষ ইচ্ছা আমরা পূরণ করতে পারলাম না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, সাঙ্গু নদীর সাতকানিয়া অংশে পানি বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে জোয়ারের উচ্চতা বেশি থাকা এবং পাহাড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারছে না।





