এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ/নড়েচড়ে বসল অধিদপ্তর, প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে কমিটি

কুমিল্লায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য স্থাপিত সরকারের ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) নড়েচড়ে বসল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘অনন্য সমৃদ্ধির কৃষির জন্য খামারবাড়ি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন’ প্রকল্প নিয়ে সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকল্পের কারিগরি দিক মূল্যায়ন এবং আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে খামারবাড়ি সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (উপকরণ) মো. রওশন আলমকে।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের উপপরিচালক (প্রকল্প বাস্তবায়ন) ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফ, গাজীপুরের জয়দেবপুর ফল বিভাগের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মসিউর রহমান এবং পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা (প্রকল্প বাস্তবায়ন) জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে সোমবার এশিয়া পোস্টে ‘কৃষিমন্ত্রীর এলাকায় কৃষি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াসিনের জেলা কুমিল্লায় বাস্তবায়নাধীন ‘ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ প্রকল্পে নানা অনিয়মের কারণে সংরক্ষিত টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি কয়েক দিনের মধ্যেই পচে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা প্রত্যাশিত লাভ তো পাচ্ছেনই না, বরং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষক আবদুস সোবহান এবং চান্দিনা উপজেলার কৃষক শরীফ হোসেনসহ একাধিক ভুক্তভোগী কৃষকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তারা জানান, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের কয়েক দিনের মধ্যেই টমেটো ও অন্যান্য সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংরক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেন। একই সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াসিন বলেন, কী সমস্যার কারণে এমনটা হচ্ছে, তা দেখতে হবে। আমি বিষয়টি দেখছি।





