Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই ঢাকা কলেজের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঢাকা কলেজ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই ঢাকা কলেজের
ঢাকা কলেজ ফটক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি বা প্রস্তুতি দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে হলেও তা দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও আজিমপুর এলাকায় আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও শিক্ষার্থীদের দাবি—শুধু কলেজভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেই অবদান জাতীয় পরিসরে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি।

এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পার হলেও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণ বা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীরা কলেজের বিভিন্ন দেয়ালে আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র অঙ্কন করেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব গ্রাফিতি রাতের আঁধারে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের নীরব ভূমিকাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনে রাজধানীর অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সাহস, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল, সমাবেশ, গণপদযাত্রা ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন এবং দাবি আদায়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখেন। অনেক শিক্ষার্থী আহত হন, কেউ কেউ গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হন, তবুও তারা আন্দোলন থেকে পিছনে যাননি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মরণমূলক কর্মসূচি হওয়া উচিত। গত বছর ঢাকা কলেজে এ উপলক্ষে আয়োজন থাকলেও এবার কোনো কর্মসূচি না হওয়া হতাশাজনক।

তার ভাষ্য, আন্দোলনের সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই কলেজ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে যথাযথ কর্মসূচির আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজের প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিনে ঢাকা কলেজ প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, অনেকেই আহত হয়েছেন এবং এখনও সেই ঘটনার ক্ষত বহন করছেন। তাই এমন একটি দিন প্রশাসনের নীরবতা শহীদ ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থতার পরিচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রশাসনের উচিত জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে এবং শহীদদের স্মরণে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এশিয়া পোস্টকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে কোনো কর্মসূচির আয়োজন না করার পেছনে প্রশাসনের কিছু বাস্তবিক বিবেচনা ছিল। এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত এক রকম হলে আর আমরা যদি ভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করি, তাহলে সেটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি আয়োজনের আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের মতামত দুই বিষয় মাথায় রেখেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। আমরা বিষয়টি উপলব্ধি করছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে আমরা ভুলে গেছি, এমনটি নয়।

বিষয় :ঢাকা কলেজ