Advertisement

আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘থ্রি-টায়ার’ সিন্ডিকেট, চট্টগ্রামে আতঙ্ক ডেভিড ইমন

আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘থ্রি-টায়ার’ সিন্ডিকেট, চট্টগ্রামে আতঙ্ক ডেভিড ইমন
মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। ছবি: সংগৃহীত

‘ভাই, আপনার বড় ছেলে তো সকালে অমুক স্কুলে যায়, ছোট মেয়েটা বিকেলে কোচিংয়ে। আর আপনার ওই নতুন প্রজেক্টের কাজ তো ভালোই এগোচ্ছে। সুন্দরভাবে ব্যবসা চালাতে চাইলে এক কোটি টাকা রেডি করেন।’—চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক আবু তালহা (ছদ্মনাম) গত সপ্তাহে ঠিক এভাবেই একটি হুমকি ও চাঁদাবাজির ফোন পান। শুধু তালহা নন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ছোট-বড় অনেক ব্যবসায়ীকে ফোন করে ভয় দেখিয়ে এভাবেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক ভয়ংকর অপরাধচক্র। গত প্রায় দেড় বছর ধরে এক অদৃশ্য অথচ ভয়ংকর ‘থ্রি-টায়ার’ বা তিন স্তরের অপরাধ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসা খাত। বিদেশে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রিমোট কন্ট্রোল, সমাজের ভেতরের তথ্যদাতা এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী চক্রের সামনে এখন চরম আস্থার সংকটে ভুগছেন স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা।

এমনকি পুলিশের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে শিল্পগ্রুপের কর্তাদের বাড়িতেও গুলি চালাচ্ছে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও, আত্মগোপনে থাকা মূল গডফাদার ও স্থানীয় হিট স্কোয়াডের এই শক্তিশালী চেইন ভাঙতে না পারায় জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা।

পুলিশি প্রহরাতেও গুলি: স্মার্ট গ্রুপ ও আস্থার সংকট

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই বেপরোয়া রূপের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘স্মার্ট গ্রুপ’। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক এবং বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের কাছে গত বছর ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এই চক্রটি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ জানুয়ারি চকবাজারের চন্দনপুরায় তার বাসভবনে গুলি চালানো হয়।

ঘটনার পর পুলিশ সেখানে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী দেয়। কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডের ঔদ্ধত্য এতটাই বেশি ছিল যে, সেই পুলিশি প্রহরার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় মুজিবুর রহমানের বাসভবনে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। প্রায় পাঁচ মাস পুলিশি পাহারা থাকার পর সম্প্রতি তা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে গুঞ্জন রয়েছে, চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় সন্ত্রাসীদের সাথে কয়েক কোটি টাকার রফাদফা হওয়ার পরই পুলিশি ছাউনি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "পুলিশ চার থেকে পাঁচ মাস নিরাপত্তা দিয়েছিল। কিন্তু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ীভাবে পুলিশি পাহারা বজায় রাখা এবং এর ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে এখনো পুলিশ মাঝে মাঝে এসে খোঁজখবর নিয়ে যায়।" চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেও বর্তমানে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে ইন্টারনেট কোম্পানিতে সন্ত্রাসীদের হামলা। ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে ইন্টারনেট কোম্পানিতে সন্ত্রাসীদের হামলা। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের এই আস্থার সংকট নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, লোকবল সংকটের কারণে একটি নির্দিষ্ট বাসায় দীর্ঘদিন পুলিশ মোতায়েন রাখা সম্ভব হয় না। আর চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানাচ্ছে না—এমন কথা মানুষ কিছুটা বাড়িয়েও বলে।

চট্টগ্রামে নতুন আতঙ্ক ডেভিড ইমন

গত বছরের ৩০ মার্চ চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে খুন এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনায় মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম সামনে আসে। এরপর গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে ‘ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)’ নামে ইন্টারনেট সেবার এক কোম্পানিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং ৩৫ লাখ টাকা ও মালপত্র লুটের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন।

ডিডিএন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন তাদের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোম্পানিতে ঢুকে এই তাণ্ডব চালানো হয়।

ডেভিড ইমনের হুমকির ফোনালাপ ভাইরাল

সম্প্রতি ডিডিএনের মালিক আদিল হোসেনের সঙ্গে ডেভিড ইমনের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে ডেভিড ইমনকে বলতে শোনা যায়, আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনারের থেকে জিজ্ঞেস করিয়েন। আমার নম্বরটা দেখাইয়েন আপনি না চিনলে, বুঝছেন? আপনি হয়ত চিনেও না চেনার মত করতেছেন। আমি আপনারে বলতেছি যে, ব্যবসা-বাণিজ্য এখন থেকে আমরা করব। আপনারা আর ব্যবসা-বাণিজ্য করিয়েন না।

এ সময় ডেভিড ইমন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ব্যবসায়-বাণিজ্য যদি করেন, স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হইছে তো দেখছেন? স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের থেকে যাইয়া আমার কথা জিজ্ঞেস করিয়েন, বলবেন সাজ্জাদ গ্রুপের ডেভিড ইমনে কল দিছে।

ভাইরাল হওয়া ফোনকলে ডেভিড ইমনকে আরও বলতে শোনা যায়, আর ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন না। আমাদের পোলাপাইন ব্যবসা করবে। ১৭-১৮ বছর তো করছেন ব্যবসা, আর কত করবেন? আমরা ৫ আগস্টের পর আসছি, আমাদের নামে মামলা-টামলা আছে, আমরা ঘুরতেছি। আপনারা কয়টা মার্ডার মামলা খাইছেন?

মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। ছবি: সংগৃহীত
মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামে ‘ডেভিড ইমন’ নামে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ চিনত না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হিসেবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, মোবারক হোসেন ইমন একজন পলাতক সন্ত্রাসী, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ডেভিড ইমন দুবাই আছেন—পুলিশের কাছে এমন কোনো রেকর্ড নেই। এমনও হতে পারে, তিনি দেশে থেকেই বিদেশে অবস্থানের কথা প্রচার করছেন সবাইকে বিভ্রান্ত করতে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।

ইনসাইড দ্য আন্ডারওয়ার্ল্ড: যেভাবে কাজ করে ‘থ্রি-টায়ার’ ক্রাইম সিন্ডিকেট

গত দেড় বছরে এটি নতুন করে সামনে আসলেও চট্টগ্রামে এমন পরিবেশ একেবারেই নতুন নয়। ২০ থেকে ২৫ বছর আগেও চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এমন চরম নৈরাজ্য ছিল। তবে মাঝের সাত থেকে ১০ বছর একেবারেই নিষ্ক্রিয় ছিল গ্রুপটি। এই গ্রুপকে নিষ্ক্রিয় করায় সে সময় পুলিশের যেসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল, তাদের কয়েকজনসহ অন্তত অর্ধডজন পুলিশ কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এই চক্রের কাজের ধরন সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও সিএমপির গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে চট্টগ্রামের এই আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি সুনির্দিষ্ট ‘থ্রি-টায়ার’ বা তিন স্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাওয়া গেছে। এই চক্রটি মূলত ভয়ের ওপর ভিত্তি করে কোটি কোটি টাকার অপরাধ সাম্রাজ্য ছড়াচ্ছে।

প্রথম স্তর (রিমোট কন্ট্রোল মাস্টারমাইন্ড): এই স্তরের শীর্ষে আছেন সাজ্জাদ হোসেন খান (বড় সাজ্জাদ) এবং হাবীব খানের মতো আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। তারা বর্তমানে ফ্রান্স বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বা আত্মগোপনে আছেন। কোনো পুঁজি বা শারীরিক ঝুঁকি ছাড়াই, শুধু ইন্টারনেট কলিং অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ওপার থেকে কল করেন এবং চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে কী পরিণতি হবে, তার রূপরেখা এরাই তৈরি করে।

দ্বিতীয় স্তর (হোয়াইট কলার ইনফর্মার): এই স্তরটি সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং চেনা কঠিন। এর মধ্যে রয়েছেন সমাজের কিছু পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, এমনকি রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণসামগ্রীর দোকানের কর্মচারী। এ ছাড়া এক বা একাধিক ফিগার যারা উঠতি সন্ত্রাসী—যেমন ডেভিড ইমন (উদ্ধৃতিতে ডেবিট ইমন রয়েছে) কিংবা রায়হান এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত। এদের কাজ শুধু কল করা, তবে কোনো ঘটনাস্থলে তারা সরাসরি যায় না। আপনি কোন এলাকায় নতুন বাড়ি করছেন, কোন ব্যাংক থেকে কত টাকার এলসি খুলেছেন, আপনার সন্তান কোন স্কুলে পড়ে—এই সব নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে বসে থাকা ‘বড় ভাই’দের কাছে পাঠিয়ে দেয় এই স্তরটি। তথ্য নিখুঁত হওয়ার কারণেই ব্যবসায়ীরা প্রথম ফোনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

তৃতীয় স্তর (লোকাল হিট স্কোয়াড): এরা মূলত স্থানীয় অভ্যাসগত অপরাধী, কিশোর গ্যাং সদস্য বা ভাসমান ‘টোকাই’। এদের সাথে মূল গডফাদারদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ থাকে না। মাঝখানের দালালদের মাধ্যমে এদের মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া (হায়ার) করা হয়। এদের কাজ শুধু নির্দেশিত বাড়ি বা গাড়িতে ঢিল মারা, আগুন দেওয়া বা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করা। এরা নিজেরাও জানে না তারা কার জন্য বা কেন এই কাজ করছে।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, এই পরিস্থিতি অনভিপ্রেত। এই সন্ত্রাসীগুলো যারা আছে তাদের দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তাদেরকেই মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্য কোনো কথা বলে লাভ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটি তারা পারছেন না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, এই চাঁদাবাজিতে অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। তারা বিদেশি সিম ব্যবহার করে এবং অভ্যাসগত অপরাধীদের দিয়ে মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ফলে তাদের ট্রেস করা কঠিন। তবে মাঠপর্যায়ে জড়িতদের ধরতে আমরা ‘এস ড্রাইভ’ নামে একটা অপারেশন চালিয়েছিলাম। আমাদের তদন্ত ও অভিযান থেমে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সাজ্জাদ বা ইমন তৈরি হওয়া বন্ধ করা যাবে না, যদি না আমরা এই চেইনটা ভাঙতে পারি। এর একমাত্র সমাধান হলো ‘তৃতীয় স্তর’ বা যারা মাঠে এসে গুলি চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা। এই কিলার গ্রুপগুলোর মনে যদি আইনের পাল্টা ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তবেই এই সিন্ডিকেট ভেঙে পড়বে।