৬৪ জেলায় নির্মাণ হবে স্পোর্টস ভিলেজ: আমিনুল হক

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, দেশব্যাপী ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে প্রথম ধাপে দেশের ১০টি স্থানে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে এবং সেই তালিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলাতেই একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ওসমানী স্টেডিয়ামে বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে খালি জায়গাগুলো বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার করা হলেও বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো এসব জায়গা সংরক্ষণ করে খেলাধুলার জন্য উপযোগী মাঠ গড়ে তোলা। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ নির্মাণে আট বিঘা করে জমি নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে দেশের ৩০০ জন সংসদ সদস্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠের জন্য জমি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের সব ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বর্তমানে ২২টি জেলায় বিদ্যমান সুইমিংপুল সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি জেলায় একটি করে নতুন সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলার গুরুত্ব আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ২০টি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে এমন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে পরীক্ষার ৬০ শতাংশ নম্বর মাঠভিত্তিক খেলাধুলা ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা।
.png)






