আজ জাতীয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস দিবস

আলু দিয়ে তৈরি অসংখ্য খাবারের মধ্যে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের জনপ্রিয়তা যেন সবসময়ই আলাদা। ছোট-বড় প্রায় সবাই এই মচমচে খাবারটি পছন্দ করেন। বার্গার, ফ্রাইড চিকেন কিংবা শুধু টমেটো সসের সঙ্গেও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খেতে ভালো লাগে। প্রতি বছর জুলাই মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে পালন করা হয় জাতীয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস দিবস। দিনটি উপলক্ষে অনেক রেস্তোরাঁ বিশেষ অফারও দিয়ে থাকে।
তবে এত পরিচিত এই খাবারের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের জন্ম কোথায়, কেন এর নাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, আর কীভাবে এটি সারা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ন্যাকসে পরিণত হলো, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বেলজিয়াম ও ফ্রান্স, দুই দেশই এই খাবারের উদ্ভাবক হওয়ার দাবি করে।
বেলজিয়ামের প্রচলিত একটি গল্প অনুযায়ী, ১৬৮০ সালের দিকে মিউজ উপত্যকার মানুষ সাধারণত ছোট মাছ ভেজে খেতেন। শীতকালে নদী বরফে জমে গেলে মাছ ধরা সম্ভব হতো না। তখন তারা আলুকে মাছের মতো লম্বা করে কেটে তেলে ভেজে খেতে শুরু করেন। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, এখান থেকেই ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের যাত্রা শুরু।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দাবি, ১৮ শতকের শেষ দিকে প্যারিসের রাস্তার খাবার হিসেবে ভাজা আলু জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফরাসি বিক্রেতারা সেতুর আশপাশে দাঁড়িয়ে গরম গরম ভাজা আলু বিক্রি করতেন। তাই অনেকেই মনে করেন, আধুনিক ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের বিকাশ ফ্রান্সেই হয়েছে।
নাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস কেন
মজার বিষয় হলো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস নামটি শুনে অনেকেই ভাবেন এটি ফ্রান্সের খাবার। তবে এর নামের পেছনেও রয়েছে নানা ব্যাখ্যা।
একটি জনপ্রিয় ধারণা হলো, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়ামে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা স্থানীয়দের কাছ থেকে এই ভাজা আলু খাওয়ার অভ্যাস পান। যেহেতু ওই অঞ্চলে ফরাসি ভাষা প্রচলিত ছিল, তাই তারা খাবারটির নাম দেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস। এরপর এই নামই ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে যায়।
কীভাবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলো
বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের জনপ্রিয়তাও দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বার্গারের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস পরিবেশন একটি পরিচিত খাবারের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।
বর্তমানে শুধু রেস্তোরাঁ নয়, সুপারশপে হিমায়িত ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসও সহজেই পাওয়া যায়। ঘরেই কয়েক মিনিটে ভেজে বা এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি করে খাওয়া যায় এই খাবার।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের কত রকম
দেশভেদে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের ধরনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্লাসিক স্ট্রেইট কাট, ক্রিংকেল কাট, কার্লি ফ্রাইস, ওয়াফল ফ্রাইস, স্টেক ফ্রাইস ও শুস্ট্রিং ফ্রাইস।
কোথাও এগুলো শুধু লবণ দিয়ে পরিবেশন করা হয়, আবার কোথাও চিজ, মাংস, গ্রেভি বা বিভিন্ন ধরনের সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
ঘরে মচমচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস বানানোর সহজ কৌশল
অনেকেই অভিযোগ করেন, বাসায় বানানো ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস রেস্তোরাঁর মতো মচমচে হয় না। কয়েকটি সহজ নিয়ম মানলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
- স্টার্চ কম এমন আলু ব্যবহার করুন।
- আলু কেটে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
- ভাজার আগে ভালোভাবে পানি মুছে শুকিয়ে নিন।
- প্রথমে মাঝারি আঁচে ভেজে তুলে রাখুন।
- পরে বেশি গরম তেলে দ্বিতীয়বার ভেজে নিলে ফ্রাইস আরও মচমচে হবে।
- ভাজার পরপরই লবণ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খাওয়ার সময় যা মনে রাখবেন
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস সুস্বাদু হলেও এটি তেলে ভাজা খাবার। তাই নিয়মিত বা অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা উচিত। চাইলে কম তেল ব্যবহার করে এয়ার ফ্রায়ারেও এটি তৈরি করা যেতে পারে।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস শুধু একটি খাবার নয়, এটি এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ন্যাকস। শত বছরের ইতিহাস পেরিয়ে আজও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। জাতীয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস দিবস তাই শুধু একটি খাবার উদযাপনের দিন নয়, বরং এমন একটি খাবারের গল্প জানারও উপলক্ষ, যা বিশ্বের নানা দেশের মানুষের রুচিকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে।




