গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ভালই লাগে: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ভালই লাগে: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ছবি: সংগৃহীত

গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নিজের মনে ‘ভালো অনুভূতি’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি গাজার ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘একটি ভালো অনুভূতি, তাই নয় কি?’ তিনি এই ধ্বংসস্তূপকে ফিলিস্তিনিদের হুমকি দূর করার লক্ষ্যে নেওয়া ইসরায়েলের একটি ‘পরিকল্পিত নীতির’ সফল বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন।

গত সোমবার গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সামরিক এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। সোমবার ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-তে তার এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়। এই সফরে কাৎজ গাজায় সামরিক বাহিনীর সাঙ্গে যুক্ত নতুন তিনটি ইহুদি বসতি স্থাপনের রূপরেখাও ঘোষণা করেন।

কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েল এখন তার আগের সামরিক কৌশল পুরোপুরি পরিবর্তন করেছে। আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে সাময়িকভাবে প্রবেশ করে আক্রমণ চালিয়ে আবার বের হয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই আগ্রাসী নীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে স্থায়ী কৌশল নেওয়া হয়েছে। যার ফলে এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার সার্বক্ষণিক ভেতরে অবস্থান করছে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বিপজ্জনক দিক ছিল গাজার উত্তরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে ইহুদিদের আধিপত্য নিশ্চিত করা। কাৎজ জানান, ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজা থেকে ইসরায়েল তাদের যে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, সেই আগের অবস্থানগুলোতে তারা আবারও ফিরে যাবেন। সেখানে নতুন করে তিনটি ‘নাহাল’ আউটপোস্ট বা সামরিক বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন মতে, নাহাল আউটপোস্ট মূলত এমন এক ধরনের বিশেষ সামরিক ক্যাম্প ও বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী, যা প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নতুন জায়গা দখল করে। পরে সেগুলোকে স্থায়ী বেসামরিক ইহুদি সম্প্রদায়ে রূপান্তর করা হয়।

কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলের নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদার ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষার স্বার্থে গাজার জমি দখল করে এই বসতি স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বর্বর ও নৃশংস গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের একটি বিশাল অংশই নারী এবং শিশু। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ও পঙ্গু হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। টানা কয়েক বছরের নির্বিচার হামলায় গাজা উপত্যকার প্রায় প্রতিটি শহর ও আবাসনকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে যুদ্ধের কারণে উপত্যকার সামগ্রিক জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে চরম অমানবিক উপায়ে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।