নির্ধারিত সময় হচ্ছে না আলী খামেনির দাফন

পূর্বনির্ধারিত সময়ে দাফন হচ্ছে না ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফনের কথা। এ জন্য সম্পন্ন করা হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। মাশহাদ আলী খামেনির জন্মভূমি। এখানেই তার বাবা শিয়া পণ্ডিত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদ হোসাইনী খামেনির করব অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় পবিত্র শহর মাশহাদে শোক শোভাযাত্রার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। খামেনির মরদেহ গ্রহণ ও দাফনের দায়িত্বে থাকা কমিটি জানিয়েছে, বিপুল জনসমাগমের কারণে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার পরিবর্তে দুপুর ২টায় জানার সময় পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয়দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শোভাযাত্রায় আলী খামেনির মরদেহ ইমাম রেজা সড়ক হয়ে অষ্টম শিয়া ইমাম ইমাম রেজার মাজারে নেওয়া হবে। সেখানে সর্বশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন।
এর আগে, গত শনিবার থেকে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকসভায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র নগর কোমে নেওয়া হয় তার কফিনবন্দি মরদেহ।
বুধবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত জানাজায় বিপুল জনসমাগম হয়। লাখ লাখ মানুষের চাপ সামাল দিয়ে পুনরায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মরদেহবাহী কফিন ইরানের মাশহাদে নিয়ে আসতে কিছুটা বেগ পেতে হয় রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। মূলত সে কারণেই তার সর্বশেষ জানাজা ও দাফনে বিলম্ব হচ্ছে।
তবে তার দাফনের শেষ মুহূর্তে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের ওপর আবারও নতুন করে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা বন্ধ না করলে সামনে ‘আরও অনেক ভয়াবহ’ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
এদিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতাবা খামেনির সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত হওয়ার পর এখনও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার মৃত্যুর সেই একই হামলায় মোজতাবা গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সূত্র: প্রেসটিভি, আলজাজিরা





