ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে নিজের প্রিয় দল মিশরের পরাজয় ও রেফারিংয়ে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে এক তরুণ লিখিত অভিযোগ নিয়ে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় গেছেন।
অভিযোগে ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিত জালিয়াতি ও কোটি কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করার দাবি তুলে ওই তরুণ পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব সুধারাম থানায় ওই অভিযোগ নিয়ে যান। তিনি ওই এলাকার মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।
লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগে তিনি ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও আরও ১৫/২০ জন প্রতারক ওই ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে মো. রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে (৭ জুলাই) তিনি এবং তার এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদী শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে বড় পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মিশর বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। খেলা চলাকালীন ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি এবং ফিফা সভাপতি সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব।
রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনার চেষ্টা করেন। পরে ম্যাচের ২৫ মিনিটে মিশর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিশর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিশরের দলের একজন স্টাফকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিশর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিশর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করতে হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে বলে জানানো হয়। তা ছাড়া স্থানীয়ভাবে এই ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ না থাকার বিষয়টি বুঝিয়ে বলে বাদীকে বিদায় করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী মো. রাকিব বলেন, আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনিসহ তার অভিযোগের সাক্ষীরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত। যার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাবেন, প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।





