বয়স বাড়ছে, সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ খাবার

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে হজমশক্তি ভালো রাখা, হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষা, পেশির শক্তি ধরে রাখা এবং বয়সজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার নির্বাচনেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পুষ্টির চাহিদাও বদলে যায়। ৫০ বছর পার হওয়ার পর হজমশক্তি কিছুটা কমতে পারে, পেশির শক্তি হ্রাস পায়, হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তাই এই সময়ে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি সাধারণ খাবার যোগ করলে বয়স্কদের হজম, হৃদ্স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এগুলো কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কাঁচা কলা
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ নামে এক ধরনের বিশেষ শর্করা থাকে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে।
এর সম্ভাব্য উপকারিতা হলো হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।
কাঁচা কলা সেদ্ধ, ভর্তা বা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
ডার্ক চকলেট
অনেকেই ভাবেন চকলেট মানেই অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট উপকারী হতে পারে। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং কোলেস্টেরল ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরি ও চিনি বেড়ে যেতে পারে।
পরিমিত পরিমাণ ঘি
পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সকালে অল্প পরিমাণ ঘি খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।
ডালিম
ডালিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে থাকা পলিফেনল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে।
ডালিম হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক, শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সমর্থন করে এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের উৎস। তাই নিয়মিত ফলের অংশ হিসেবে ডালিম রাখা যেতে পারে।
শুধু এই চারটি খাবারই যথেষ্ট নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য একটি বা দুটি খাবারের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় আরও থাকতে হবে বিভিন্ন রঙের শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল ও শিমজাতীয় খাবার, মাছ, ডিম বা চর্বিহীন প্রোটিন, বিভিন্ন শস্য এবং পর্যাপ্ত পানি।
এর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও জরুরি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনও বাড়ে। কাঁচা কলা, ডার্ক চকলেট, পরিমিত ঘি এবং ডালিমের মতো খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এগুলো কোনো অলৌকিক খাবার নয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)





