চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্যাঞ্চল, কোথাও বন্যা কোথাও পাহাড়ধস

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। বন্যা ও সড়ক ভেঙে পড়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
চট্টগ্রামে ১২ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, স্থবির জনজীবন
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, এর মধ্যে শুধু শেষ ১২ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার।
ভারী বৃষ্টির কারণে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সকালে ইস্পাহানি সি-গেটসহ আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সড়কে তীব্র রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দিয়েছে এবং সুযোগ বুঝে চালকেরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে, যার ফলে নতুন করে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা বাড়ছে।
আবহাওয়ার সতর্কবার্তা: চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের চরম ঝুঁকি রয়েছে।
কক্সবাজারে প্রাণহানি ও পানিবন্দি লাখো মানুষ
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও রামু এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা এলাকায় পাহাড়ধসে রোজিনা আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পেকুয়ায় বানের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং চকরিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আরও এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তিন পার্বত্য জেলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটি: বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও নানিয়ারচরের নিচু এলাকা জলমগ্ন। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক এবং রাঙ্গুনিয়ার শীলক এলাকায় সেতু ধসে পড়ায় রাঙ্গামাটি-রাজস্থলী-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ভারতের মিজোরামের ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে।
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে বৃষ্টি কমায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ছোট মেরুং ইউনিয়নে মাইনী নদীর পানি কমলেও এখনও প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।





