১১ দিনে তিন মামলায় জামিন পেলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বুইস্যা’

অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ অন্তত ৪২টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এই সন্ত্রাসী ১১ দিনের ব্যবধানে পরপর তিনটি গুরুতর মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের নথি এবং কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই চান্দগাঁও থানার দুটি অস্ত্র মামলায় এবং সর্বশেষ ১২ জুলাই পাঁচলাইশ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পায় বুইস্যা।
সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, উচ্চ আদালত থেকে আসা এই তিনটি মামলার জামিননামা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে তিন মামলায় জামিন হলেও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি মিলছে না বুইস্যার। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, বন্দি শহীদুল ইসলামের বুইস্যার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনের অন্তত ৪২টি মামলা রয়েছে। তিন মামলার জামিননামা কারাগারে আসলেও বাকি ৩৯টি (এখানে তথ্য অনুযায়ী হিসাব ঠিক করা হয়েছে) মামলা সচল থাকায় তার এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে নগরের ফিনলে সাউথ সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুইস্যাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে র্যাব। ওই সময় র্যাব জানিয়েছিল, গ্রেপ্তারকৃত বুইস্যার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ এবং চকবাজার থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, নাশকতা ও মাদকসংক্রান্ত অন্তত ৪২টি মামলা রয়েছে।
টেম্পো বনাম বুইস্যা: বহদ্দারহাটে গ্যাং ওয়ার ও টর্চার সেল
র্যাবের দাবি, চান্দগাঁও এবং পাঁচলাইশ এলাকায় অপরাধের সাম্রাজ্য ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘বুইস্যা বাহিনী’র সঙ্গে ইসমাইল হোসেন ওরফে ‘টেম্পো বাহিনী’র দীর্ঘদিন ধরে রক্তাক্ত সংঘাত চলছিল।
গত বছরের ২১ জুলাই বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকার ‘দিগন্ত খাজা টাওয়ারে’ এই দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই ভবনে বুইস্যার একটি গোপন ‘টর্চার সেল’-এর সন্ধান মেলে। সেখান থেকে বুইস্যা গ্রুপের ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশের লুট হওয়া গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করা হলেও মূলহোতা বুইস্যা সে সময় কৌশলে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, ভোলার দৌলতখানের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম প্রকাশ বুইস্যা নগরের পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় অবস্থান করে চট্টগ্রামজুড়ে অস্ত্র ব্যবসা, ইয়াবা চোরাচালান ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করত।
চাঁদাবাজিতে কেউ বাধা দিলে দিগন্ত খাজা টাওয়ারের আস্তানায় এনে নিজস্ব ‘টর্চার সেলে’ জিম্মিদের ওপর চলত বর্বর নির্যাতন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে আস্তানার চারপাশে একটি বিশেষ গোপন তথ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল বুইস্যা, যার মাধ্যমে অভিযানের খবর সে আগেই পেয়ে যেত।
প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক
গত বছরের ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশের বাদুরতলা এলাকায় চাঁদার দাবিতে বুইস্যার অন্যতম সহযোগী মুন্নার প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে এই বাহিনীর একাধিক সদস্যের অস্ত্রহাতে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
.png)






