Advertisement
ইউআইইউতে সেমিনার

জলবায়ু পরিবর্তনে তাপজনিত চাপ ও বায়ুদূষণ ‘দ্বৈত বোঝা’: এডিবি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনে তাপজনিত চাপ ও বায়ুদূষণ ‘দ্বৈত বোঝা’: এডিবি
ইউআইইউর সেমিনারে কথা বলছেন এডিবির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মিনহাজ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান তাপজনিত চাপ এবং বায়ুদূষণ একসঙ্গে একটি ‘দ্বৈত বোঝা’ সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মিনহাজ মাহমুদ। তিনি বলেন, এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কর্মশক্তির উৎপাদনশীলতা, শ্রমবাজার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সে’র (এসওবিই) উদ্যোগে নেক্সাস সেমিনার সিরিজের দ্বিতীয় সেমিনার হিসেবে ‘দ্যা ডাবল বার্ডেন অব ক্লাইমেট চেঞ্জ: হাউ হিট স্ট্রেস এ্যান্ড এয়ার পলিউশন স্ট্রেটিফাই দ্যা ওয়ার্কফোর্স’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। এই দীর্ঘমেয়াদি সেমিনার সিরিজটি ব্যবসা, অর্থনীতি, সমাজ এবং একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি কার্যকর ও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

এশিয়ার কয়েকটি দেশের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গবেষণার আলোকে ড. মিনহাজ মাহমুদ বলেন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে না, বরং ঘরের বাহিরে কর্মরত শ্রমিক, নারী, প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চলের বাসিন্দারা এসব ঝুঁকির কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ু দূষণের সম্মিলিত প্রভাব কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলছে।

ড. মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে জলবায়ু-সহনশীল কর্মশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সেমিনারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ইকোনমিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইমপ্যাক্ট বিভাগের প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. নাজমুল চৌধুরী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল বায়েস। আলোচনায় প্যানেলিস্টরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং টেকসই ব্যবসায়িক চর্চার ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু বাস্তবতায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে জলবায়ু সহনশীলতাকে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন জোরদার করা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উদীয়মান পরিবেশগত ও কর্মশক্তি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারী নীতি প্রনয়ন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্যানেলিস্টরা আরও উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার, ইন্ডাস্ট্রি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত ও টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, এই বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বই ভবিষ্যতের জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নেক্সাস সেমিনার সিরিজের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অর্থবহ একাডেমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার, ইন্ডাস্ট্রি ও নীতি-নির্ধারণী মহল এবং শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নেক্সাস সেমিনার সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ইউআইইউর বিবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সালমা করিম এবং একটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালায়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন করপোরেট সেক্টরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।