মিশিগানের সিনেট দৌড়ে মিসরীয় আব্দুল এল-সায়িদকে বাংলাদেশিদের সমর্থন

মিশিগানের আসন্ন ৪ আগস্টের মার্কিন সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি। অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে মনোনয়নের লড়াইয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মিসরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রার্থী ড. আব্দুল এল-সায়িদ।
ডেট্রয়েটে বেড়ে ওঠা ড. আব্দুল এল-সায়িদ পেশায় একজন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেন। জনস্বাস্থ্য খাতে কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। এবার তার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে এমন সরকার গড়তে চান। তার প্রচারণার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে বড় অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমিকদের অধিকার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ।
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ ও মধ্যপন্থী ধারার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক লড়াই। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মিশিগানে আরব-আমেরিকান, মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকায় আব্দুল এল-সায়িদের প্রার্থিতা এসব সম্প্রদায়ের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের প্রগ্রেসিভ নেতাদের সমর্থন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের ভিন্ন অবস্থান এই সিনেট নির্বাচনকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
এদিকে আব্দুল এল-সায়িদের নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা বাড়ি বাড়ি, মসজিদ এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ করছেন। বিশেষ করে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিদের মধ্যে নির্বাচনি লিফলেট বিতরণ করে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তার সমর্থকরা।
মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়। এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী প্রাইমারিতে ভোটাররা কাকে বেছে নেন, তার ওপর নির্ভর করবে কে রিপাবলিকান প্রার্থীর মুখোমুখি হবেন এবং ওয়াশিংটনে দলের ভবিষ্যৎ কৌশলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এখন দেখার বিষয়, চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা আব্দুল এল-সায়িদ ভোটারদের আস্থা অর্জন করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারেন কি না। সেই উত্তর মিলবে আগামী ৪ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে।
.png)





