Advertisement

রাজশাহী ওয়াসা/কোটি টাকার অটোমেশনে কমেনি ব্যয়

কোটি টাকার অটোমেশনে কমেনি ব্যয়
রাজশাহী ওয়াসা। ছবি: সংগৃহীত

নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজশাহী ওয়াসা। ব্যয় করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সেই প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। বাড়ছে পরিচালন ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ।

বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীতে ওয়াসার ১২১টি পানি উত্তোলন পাম্প চালু রয়েছে। নগরীর শ্যামপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে একটি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার রয়েছে। কয়েক বছর আগে নির্মিত এ প্ল্যান্টটি নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বছরে মাত্র কয়েক মাস সচল থাকে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, পাম্প পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১৫৩ জন কর্মচারী ও শ্রমিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়; যা বছরে প্রায় তিন কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে বছরে আরও প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু পানি বিক্রি থেকে এই ব্যয়ের পুরোটা উঠে আসে না।

দুই বছর আগে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাম্পগুলোতে অটোমেশন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাম্প চালু-বন্ধ, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে অধিকাংশ পাম্প ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। পাম্প চালকরা সরাসরি পাম্পঘরে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ওয়াসার নথিপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী–বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ লিটার। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় আট কোটি ৬৫ লাখ লিটার। এর মধ্যে মাত্র ৯০ লাখ লিটার পানি শোধন করা হয়। বাকি পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে তুলে সরাসরি সরবরাহ করা হচ্ছে।

ওয়াসার নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৫৩ হাজারের বেশি হলেও অবৈধ সংযোগ রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। এতে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রতি লিটার পানি উত্তোলন ও সরবরাহে ওয়াসার খরচ হয় চার টাকা ৫৬ পয়সা। আবাসিক গ্রাহকদের কাছে ভর্তুকি দিয়ে তা বিক্রি করা হয় দুই টাকা ২৭ পয়সায়। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ৪ টাকা ৫৪ পয়সা।

ওয়াসার কর্মকর্তাদের মতে, অটোমেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা গেলে অন্তত ১২৫ জন পাম্পচালককে অন্য কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে। এতে জনবল ব্যয় কমবে এবং সেবার দক্ষতাও বাড়বে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল মিলছে না।

এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, অটোমেশন ব্যবস্থা সংস্থাটির জন্য নতুন হওয়ায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সময় লাগছে। ধাপে-ধাপে এ প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।